সুলাইমান পোদ্দার ,স্টাফ রিপোর্টার (ভোলা)।।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ৩০ লাখ টাকার একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের ভেতরের একটি খালে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে একদিনের জন্যও চরাঞ্চলবাসীর চিকিৎসায় এটি কোনো কাজে আসেনি। ফলে সরকারের এই মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ৩০ লাখ টাকা মিশে যাচ্ছে মাটির সাথে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চর মোজাম্মেল, চর জহিরউদ্দিন, চর নাসরিন, সিডার চর ও চর লাদেনে বসবাসরত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার’ (সিবিএইচসি) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি অ্যাম্বুলেন্সটি তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ৩০ লাখ টাকা। অ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে শশীগঞ্জ স্লুইচঘাটের দক্ষিণ পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শশীগঞ্জ স্লুইচঘাটের দক্ষিণ পাশের একটি খালের মধ্যে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এর বিভিন্ন স্থানের গ্লাস এবং মেশিনের যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ভেতরের রোগী শোয়ার ও স্বজনদের বসার আসনগুলোও (সিট) উধাও হয়ে গেছে।
ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানা অজুহাতে তজুমদ্দিন উপজেলার এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২০ সালের ২২ মে বিকল দেখানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি অলস পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে, অথচ চরবাসীর একদিনের জন্যও এটি কোনো উপকারে আসেনি। চরাঞ্চলের মানুষ যে কোনো সমস্যায় বাধ্য হয়ে শশীগঞ্জ স্লুইচঘাট এলাকা দিয়ে ট্রলারে পারাপার হন। এমনকি রাতে কোনো রোগীর জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা জনকল্যাণমূলক এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি কার বা কাদের গাফিলতিতে আজ এই বেহাল দশায় পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দ্রুত এটি সংস্কার করে চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত বলেন, তিনি তজুমদ্দিনে যোগদানের আগ থেকেই নৌ এম্বুলেন্সটি পরিতক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি একাধিকবার অবগতন করেছি। বর্তমানে জ্বালানি খরচ ও চালকের বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। এটি একেবারেই মেরামতের অযোগ্য বর্তমানে। তবু ও যোগাযোগ করে দেখতে হবে অ্যাম্বুলেন্সটির কী করা যায়।

