সুলাইমান পোদ্দার ষ্টাফ রিপোর্টার, (ভোলা)।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এই জনপদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত অত্যন্ত অসম। ১১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪ টিতে প্রধান শিক্ষক এবং ৮৪ টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে প্রধান শিক্ষককেও নিয়মিত ক্লাসরুমে পাঠদানে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, যার ফলে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেগুলোতে ঘুরে জানা যায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক না থাকায় ক্লাসে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পালাক্রমে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ পড়ছে। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক মমিন উদ্দিন ও আব্বাস মিয়া বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব বিদ্যালয়ে এমনিতেই নানা প্রতিকূলতা রয়েছে, তার ওপর শিক্ষক সংকটের কারণে পড়াশোনার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।” তারা প্রতিটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান বৃদ্ধি করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রিয়াজ আলম জানান, শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ বা বদলি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

