মোঃ আব্দুল আজিজ শেখ নওগাঁঃ
সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন গোফরইমপ্যাক্ট কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের, বিশেষত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশ, সুইসকন্টাক্ট ও সহযোগী সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় বাহাদুরপুর ইউনিয়নে জনগণের জীবন ও জীবিকায় সৃষ্ট পরিবর্তন ও অর্জন জানতে একটি কমিউনিটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।১৮আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ১০:০০টায়বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: জাকির হোসেন, সমাজসেবক, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মো: রাহেয়ানুল ইসলাম লিটন, সভাপতি, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন সুশীল সমাজ সংগঠন। সভাপতিত্ব করেন মো: ওয়াজেদ আলী, প্যানেল চেয়ারম্যান, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রঞ্জন কুমার ঘোষ, পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রণব কুমার, সিসিবি, ইএসডিও, গোফরইমপ্যাক্ট কর্মসূচি।
সংলাপে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, এনজিও, নাগরিক ও সুশীল সমাজ, যুব, নারী, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও ছাত্র প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে ইউনিয়ন পরিষদের পরিচালন ব্যবস্থা, জনগণের অংশগ্রহণ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, নিয়মিত সভা, ওয়ার্ড সভা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের অংশগ্রহণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জনগণের চাহিদা ও মতামত ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে তুলে ধরার ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাজেট ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতায় দরিদ্র কমিউনিটিতে নিরাপদ পানি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাধানগর বাজারে ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বিভিন্ন এনজিওর সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অংশগ্রহণকারীরা জানান।
সংলাপে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে। আলোচনায় চিহ্নিত পরিবর্তন, অর্জন, আউটকাম ও ইমপ্যাক্ট আউটকাম হার্ভেস্টিং ফরমেটের আলোকে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কমিউনিটি সংলাপটি ফলপ্রসূভাবে সম্পন্ন হয়।

