ভালুকা প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি জবরদখল ও গাছ থেকে কাঁঠাল চুরির প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, আহত ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনতাই এবং তাকে পুকুরে ফেলে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৯ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার মেদুয়ারী বাকসাতড়া মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তির নাম মোঃ সুরুজ মিয়া (৪৮)। তিনি ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে রেজিস্ট্রি মূলে কেনা ২৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ একই এলাকার ১নং বিবাদী মোঃ আঃ কাদিরসহ তার সহযোগীরা জমিটি জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এমনকি ভুক্তভোগীর জমির গাছপালা কাটা এবং কলা-কাঁঠাল চুরির মতো ঘটনাও ঘটাতো তারা।
ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১৯ জুন, ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার সময় সুরুজ মিয়া খবর পান যে, বিবাদীরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তার জমিতে থাকা গাছ থেকে জোরপূর্বক কাঁঠাল চুরি করছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাধা দিলে শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। বিবাদীরা সুরুজ মিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কিল, ঘুষি, লাথি ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে ২নং বিবাদী মোঃ শামীম মিয়া বাঁশের লাঠি দিয়ে সুরুজ মিয়ার বাম হাঁটুতে সজোরে আঘাত করলে তার হাড় ভেঙে যায়। মারধরের একপর্যায়ে বিবাদীরা সুরুজ মিয়াকে জাপটে ধরে তার পরিহিত লুঙ্গির কোঁচা থেকে নগদ ৫০,০০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে, বিবাদীরা তাকে আড়কোলা করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। চলে যাওয়ার সময় জমি জবরদখল করার এবং এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলা ও খুন-জখমের হুমকিও দেয় তারা। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা মারধরের ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

