সুলাইমান পোদ্দার ষ্টাফ রিপোর্টার (ভোলা)।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে জমিতে বিষপ্রযুক্ত সার প্রয়োগ করে এক খামারির ১৩টি হাঁস মেরে ফেলার এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীর শত্রুতার জেরে এ নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। হঠাৎ এতগুলো হাঁস মারা যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস খামারি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সরোজমিনে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের গোলাম রহমান মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা ও হাঁস খামারি মোসাঃ আসমা বেগম লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো তার খামারের হাঁসগুলো বাড়ির পাশের খালি জায়গায় চরাতে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার মকবুল মুন্সিবাড়ি বাসিন্দা খলিল পূর্বশত্রুতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নিজ খালি জমিতে রাসায়নিক সারের সাথে মারাত্মক বিষ মিশিয়ে ছিটিয়ে রাখেন। চরে খাওয়ার একপর্যায়ে হাঁসগুলো সেই বিষাক্ত সারমিশ্রিত খাদ্য খেলে একে একে ১৩টি হাঁস ঘটনাস্থলেই ছটফট করে মারা যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আসমা বেগম বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে হাঁসগুলো বড় করেছিলাম। পরিবারের হাল ধরতে এই হাঁসগুলোই ছিল আমাদের মূল সম্বল। অথচ বাড়ির পাশের খালি জমিতে সারের সাথে বিষ মিশিয়ে রাখা হয়েছিল। খলিল ইচ্ছা করেই এমন অপকর্ম করেছে, যার বলি হলো আমার ১৩টি অবোলা হাঁস। সারাদিনের আয়ের পথ এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। আমি এর কঠোর বিচার চাই।”
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবোলা প্রাণীর প্রতি এমন নির্মমতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষ বলছেন, জমি সংক্রান্ত বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত; কিন্তু এভাবে বিষ প্রয়োগ করে প্রাণী হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত খামারি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তি ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

