ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঋণের টাকা সুদ সহ পরিশোধের পরও নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া সাক্ষর করা ব্লান্ক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে ঋণদাতা কর্তৃক উল্টো চেক ডিজঅনার মামলায় এক নারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী মজিদা খাতুন বাদী হয়ে সুদখোর মো: আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি প্রতারনার মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের পাইলাব গ্রামের বাসিন্দা সুদ কারবারি মোঃ আফতাব উদ্দিন(৬৫)’র কাছ থেকে একই এলাকার মজিদা খাতুন(৪৫) প্রতিবছর সুদ প্রদানের শর্তে স্বাক্ষর করা ব্লান্ক চেক ও ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বন্ধক রেখে দুই লাখ টাকা ঋণ গ্রহন করেন। এরপর ভুক্তভোগী মজিদা খাতুন কয়েক বছর ঋণের টাকার বিপরীতে সুদ প্রদান করে আসেন । পরে গত মে মাসের ২০ তারিখে মো: আফতাব উদ্দিনকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও ঋণের টাকার নিরাপত্তা হিসেবে বন্ধক দেওয়া মজিদা খাতুনের সাক্ষর করা ব্লান্ক চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও তা ফেরত না দিয়ে উল্টো ৭ লক্ষ টাকা দাবী করতে থাকে। একপর্যায়ে মজিদা খাতুন সেই টাকা দিতে অস্বীকার জানালে তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন সুদ করবারি মো: আফতাব উদ্দিন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মজিদা জানান, ঋণের টাকা সুদ সহ পরিশোধের পর বন্ধক রাখা অগ্রণী ব্যাংক গফরগাঁও শাখার হিসাব নং ০০০৩৬৭০৩৯৭ এর ব্লান্ক চেক নং OIC 3343184 ফেরত নিতে গত ৬ জুলাই কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে আফতাব উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি সেগুলো ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে জানান তিনি।
প্রতারনার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদ কারবারি মোঃ আফতাব উদ্দিনের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে ব্লান্ক চেক, স্ট্যাম্প ও ২ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, মজিদা খাতুন তার কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকাই ঋণ নিয়েছিলেন তার বিপরীতে নিরাপত্তা হিসেবে ৭ লক্ষ টাকার একটি চেক বন্ধক রাখেন। তার পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানায়। তবে তিনি প্রতিবেদককে কথার ছলে আরও জানান তার কাছে মজিদার স্বাক্ষর করা ৫ লক্ষ টাকার আরেকটি চেক রয়েছে । তিনি মজিদার বিরুদ্ধে ৭ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। ভবিষ্যতে অপর আরেকটি চেকের বিপরীতে আরও ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।
এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মজিদা খাতুন।

